ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালখালীতে যুব রেডক্রিসেন্টের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo বোয়ালখালীতে হকখালী খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এরশাদ উল্লাহ এমপি Logo বোয়ালখালী ঘাসফুল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার মাহফিল Logo বোয়ালখালীর আকুবদণ্ডীতে মগধেশ্বরী মাতৃমন্দিরে মহোৎসব Logo বোয়ালখালীতে আমুচিয়া মানবিক ঐক্য ফাউন্ডেশনের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও হাফেজদের মাঝে ঈদ উপহার Logo বোয়ালখালীতে শ্রমিক বিক্ষোভ: সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত দুই সাংবাদিক Logo বোয়ালখালীতে শালিস বৈঠকে ঢলে পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু Logo আহলা দরবার শরীফে মওলা আলী (রাঃ)-এর স্মরণে ওরশে পাক ও ইফতার মাহফিল Logo হাওলা কুতুবিয়া সৈয়দা জাহানারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানার উদ্বোধন Logo সেনাবাহিনীর অভিযানে বোয়ালখালীতে অস্ত্রসহ আটক ১
ই-পেপার দেখুন

৩৪ বছর ব্যবসা করে শূন্য হাতে চবি ছাড়লেন অলি

চৌত্রিশ বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আসেন বরিশালের অলিম উদ্দীন। জমি বেচে দেড় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে আসেন তিনি। ক্যাম্পাসে খোলেন খাবারের হোটেল। প্রায় তিন যুগ ধরে কোনো রকম টিকে ছিলেন। কিন্তু করোনার ধাক্কা সামলাতে পারলেন না। তল্পিতল্পা গুটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন তিনি।

তবে দুঃখের বিষয় এত বছর এত বড় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে খাবারের ব্যবসা করে খালি হাতে ফিরতে হলো অলিম উদ্দীনকে। বাকির খাতা পূর্ণ করে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। আজ রোববার পুঁজি হারিয়ে শূন্য হাতে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর পাওনা প্রায় ৬ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে ‘প্রয়াস’ নামের খাবার হোটেলটি ছিল অলিম উদ্দীনের। তিনি ছাত্রদের কাছে ‘অলি ভাই’ নামেই পরিচিত। করোনার সময় ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। করোনা সংক্রমণের তীব্রতা কমার পর ক্যাম্পাস খুললে আবার ব্যবসা শুরু করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাকি–বকেয়া আদায় করতে না পেরে ক্রমে পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর একেবারে নিঃস্ব হয়ে দোকান ছেড়ে দেন।

অলিম উদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৯৮৮ সালে জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। শুরুর দিকে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারলেও গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। যার অন্যতম কারণ বাকি খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়া। শিক্ষার্থীদের কাছে আমি প্রায় ৬ লাখ টাকা বকেয়া পাই। কিন্তু তাঁরা টাকা না দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।’

অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে অলিম উদ্দীন বলেন, ‘ছাত্রাবস্থায় যারা বাকি খেয়েছে, তাদের অনেকে এখন ভালো ভালো জায়গায় চাকরি করে। তারা চাইলে আমার টাকাগুলো দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দেয় না। বাকি খাওয়াতে খাওয়াতে আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। দোকান ছেড়ে খালি হাতে ক্যাম্পাস থেকে চলে এসেছি। যারা আমার কাছ থেকে বাকি খেয়েছে, তারা যেন আমার মোবাইল নম্বরে বিকাশ করে টাকা পাঠিয়ে দেয়।’

বাড়িতে গিয়ে কী করবেন জানতে চাইলে অলিম বলেন, ‘এখন আমার কিছু করে খাওয়ার মতো বয়স নেই। আল্লাহ–বিল্লা করে কোনোমতে কাটাব।’

বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাকির কারণে ক্যাম্পাসে দোকান চালানো দুরূহ হয়ে পড়ছে। ক্যাম্পাসের সব দোকানেই বাকি আছে। বাকির ভারে অলি ভাইকে শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাস ছেড়েই চলে যেতে হয়েছে। গত মাসে দোকান ছেড়ে তিনি যাদের কাছে বাকি পাবেন, সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এক টাকাও পাননি। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

ট্যাগস :

আপনার মতামত লিখুন

বোয়ালখালীতে যুব রেডক্রিসেন্টের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

৩৪ বছর ব্যবসা করে শূন্য হাতে চবি ছাড়লেন অলি

আপডেট সময় ১০:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২

চৌত্রিশ বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আসেন বরিশালের অলিম উদ্দীন। জমি বেচে দেড় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে আসেন তিনি। ক্যাম্পাসে খোলেন খাবারের হোটেল। প্রায় তিন যুগ ধরে কোনো রকম টিকে ছিলেন। কিন্তু করোনার ধাক্কা সামলাতে পারলেন না। তল্পিতল্পা গুটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন তিনি।

তবে দুঃখের বিষয় এত বছর এত বড় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে খাবারের ব্যবসা করে খালি হাতে ফিরতে হলো অলিম উদ্দীনকে। বাকির খাতা পূর্ণ করে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। আজ রোববার পুঁজি হারিয়ে শূন্য হাতে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর পাওনা প্রায় ৬ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে ‘প্রয়াস’ নামের খাবার হোটেলটি ছিল অলিম উদ্দীনের। তিনি ছাত্রদের কাছে ‘অলি ভাই’ নামেই পরিচিত। করোনার সময় ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। করোনা সংক্রমণের তীব্রতা কমার পর ক্যাম্পাস খুললে আবার ব্যবসা শুরু করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাকি–বকেয়া আদায় করতে না পেরে ক্রমে পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর একেবারে নিঃস্ব হয়ে দোকান ছেড়ে দেন।

অলিম উদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৯৮৮ সালে জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। শুরুর দিকে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারলেও গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। যার অন্যতম কারণ বাকি খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়া। শিক্ষার্থীদের কাছে আমি প্রায় ৬ লাখ টাকা বকেয়া পাই। কিন্তু তাঁরা টাকা না দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।’

অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে অলিম উদ্দীন বলেন, ‘ছাত্রাবস্থায় যারা বাকি খেয়েছে, তাদের অনেকে এখন ভালো ভালো জায়গায় চাকরি করে। তারা চাইলে আমার টাকাগুলো দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দেয় না। বাকি খাওয়াতে খাওয়াতে আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। দোকান ছেড়ে খালি হাতে ক্যাম্পাস থেকে চলে এসেছি। যারা আমার কাছ থেকে বাকি খেয়েছে, তারা যেন আমার মোবাইল নম্বরে বিকাশ করে টাকা পাঠিয়ে দেয়।’

বাড়িতে গিয়ে কী করবেন জানতে চাইলে অলিম বলেন, ‘এখন আমার কিছু করে খাওয়ার মতো বয়স নেই। আল্লাহ–বিল্লা করে কোনোমতে কাটাব।’

বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাকির কারণে ক্যাম্পাসে দোকান চালানো দুরূহ হয়ে পড়ছে। ক্যাম্পাসের সব দোকানেই বাকি আছে। বাকির ভারে অলি ভাইকে শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাস ছেড়েই চলে যেতে হয়েছে। গত মাসে দোকান ছেড়ে তিনি যাদের কাছে বাকি পাবেন, সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এক টাকাও পাননি। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করছি।’