বিশেষ প্রতিনিধি:–সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই সন্তান, জেবা জামান ও তানয়ীম জামান চৌধুরী, আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে বসে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৩ সালের ২২ জুন, ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব সাইফুজ্জামান চৌধুরীর তিন সন্তানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
জিবা জামান ই-পাসপোর্টটি সংগ্রহ করেছেন যা একটি ৪৮ পৃষ্ঠার অর্ডিনারি পাসপোর্ট, যার মেয়াদ ২০৩৪ সালের ২৮ মে পর্যন্ত। পাসপোর্টের ইস্যু তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ২৯ মে। এতে করা আবেদনপত্রে তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার ঠিকানা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, তানয়ীম জামান চৌধুরীর ই-পাসপোর্টের নম্বর এ১৭৫৪৫৫, যা ২০৩৫ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তাদের আবেদনের প্রক্রিয়া চলেছে এক্সপ্রেস ডেলিভারি সুবিধা নিয়ে, যার ফলে তারা প্রয়োজনীয় নয় এমন সময়ের তুলনায় দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে গেছেন।
এখন উঠে এসেছে দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ। বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, এক চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা পাসপোর্ট বিতরণ প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে সহায়তা করেছেন। এটি প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং দুর্বলতার একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৩০টিরও বেশি সম্পত্তির ওপর জব্দের আদেশ দেন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এই সম্পত্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা বিভিন্ন বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তদন্ত চলছে এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী সব কিছু পর্যালোচনা করা হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা যে শুধু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর চাপ ফেলেছে, তা নয়; বরং এটি জনগণের মধ্যে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর জনগণের আস্থা অর্জন করা এখন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 



















