

নুরুল ইসলাম সুমন, (ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি)➤বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এবং চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। তবে, অনুতাপজনকভাবে, এ বছর জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার আগেই নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি।
জেলেদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞায় তারা চরম খাদ্য সংকট এবং আর্থিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় তারা ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। সরকারি সহায়তা অপর্যাপ্ত এবং দাদন ব্যবসার কবলে পড়ে হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার একমাত্র উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে আরকান আর্মির অস্থিরতা, জেলে অপহরণ এবং চলমান নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার মধ্যে টেকনাফ উপজেলার হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
অন্য একাধিক জেলে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় গত দেড় বছর ধরে আরাকান আর্মি কর্তৃক অপহরণ ও বিভিন্ন চাপের কারণে তারা নিয়মিত মাছ ধরতে পারেননি। তারপর গত বছর জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। আর এখন রয়েছে ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা, যা তাদের নতুন করে বিপাকে ফেলেছে। পূর্বের চেয়ে আয়হীন হয়ে তাদের পরিবারে অনাহারি কাটানোর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে জেলেদের দাবি, এই সহায়তা তাদের জীবিকার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট নয়। টেকনাফ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০,৬৮৩ জন, এবং এসব জেলের রয়েছে ১,৫৩২টি নৌযান। এছাড়া, হাজারো অনিবন্ধিত জেলেও রয়েছেন, যারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
শাহপরীর দ্বীপের রহিম উল্লাহ, ২০ বছরের অভিজ্ঞ প্রান্তিক জেলে, জানান যে তার পরিবার আটজন সদস্য নিয়ে জনিত অসুবিধায় রয়েছে। তিনি বলেন, “মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র উপার্জনের উৎস, কিন্তু এখন সেই সুযোগ বন্ধ। আমরা খাদ্যর অভাবে খুব কষ্টে আছি।”
এছাড়াও, শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম ঘাটের আব্দুর গফুর বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আমাদের জন্য সংসার চালানো সত্যিই বড় দুশ্চিন্তা। নিবন্ধিত জেলেরা সরকারী সহায়তা পেলে অনিবন্ধিত জেলেদের জন্য তা কার্যকর নয়, ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিতরণ কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়া, নিবন্ধিত জেলেদের জ্বালানি সংকট মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা সবার কাছে দৃষ্টিগোচর এবং সমাধানের দাবি জানাচ্ছে।
ই-মেইল:
[email protected],
[email protected]
৯/ডি মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
Copyright © 2026 আজকের সংবাদ. All rights reserved.